নাগাল্যান্ডের গুহায় মিলল ঐতিহাসিক নিদর্শন
ঢাকাঃ ভারতের নাগাল্যান্ডে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ বছর আগের মানব বসতির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মিলেছে।গুহা ও পাথরের আশ্রয়স্থল থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন নিদর্শন উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাগৈতিহাসিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এনেছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের মার্চে নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং নাগাল্যান্ড সরকারের শিল্প ও সংস্কৃতি দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই অনুসন্ধান পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তিয়াতোশি জামির। তার সঙ্গে ছিলেন গবেষক ড. হেমে লামথাইউ, ড. লিমাসানেন লংকুমের, খুমেং টি, রবিনসন হুইদ্রোম এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ভিক্টোরিয়া লেইরি।গবেষক দল নকলাক জেলার চিফুর গ্রামের চুনাপাথরের পাহাড়ি এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে পাঁচটি গুহা এবং চারটি রকশেল্টারের সন্ধান পান। খননকাজে উদ্ধার করা হয় দড়ির ছাপযুক্ত প্রাচীন মাটির পাত্র, পাথরের তৈরি হাতিয়ার, আগুন জ্বালানোর চুল্লির অবশিষ্টাংশ এবং পোড়া শস্যের নমুনা।উদ্ধার হওয়া শস্যের মধ্যে ফক্সটেল মিলেট এবং জবস টিয়ার্সের কার্বনাইজড নমুনাও রয়েছে। গবেষকদের মতে, এসব নিদর্শন থেকে বোঝা যায়, সে সময়ের মানুষ কৃষিকাজের পাশাপাশি শিকারও করতেন।নমুনাগুলোর বয়স নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামিতে অবস্থিত বেটা অ্যানালিটিক ল্যাবরেটরিতে অ্যাক্সিলারেটর মাস স্পেকট্রোমেট্রি প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, লেইলো কা রকশেল্টারের বয়স প্রায় ৩ হাজার ৫০০ বছর এবং কাথসো কা গুহার বয়স প্রায় ১ হাজার বছর।গবেষকদের দাবি, এই আবিষ্কার শুধু নাগাল্যান্ড নয়, পুরো উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাচীন মানব বসতি, কৃষি, মৃৎশিল্প, প্রযুক্তি এবং তৎকালীন জীবনযাত্রা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য দেবে।উদ্ধার হওয়া প্রত্নবস্তুগুলো নাগাল্যান্ড স্টেট মিউজিয়াম এবং নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে চলতি বছরের অক্টোবরে একটি বিশেষ প্রদর্শনীতে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।