দুই শতাব্দী পেরিয়েও জনপ্রিয় লন্ডনের ‘রুলস’ রেস্তোরাঁ


ঢাকাঃ যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের ব্যস্ত কোভেন্ট গার্ডেনে দাঁড়িয়ে আছে ‘রুলস’ নামের একটি রেস্তোরাঁ।
১৭৯৮ সালে যাত্রা করা এ প্রতিষ্ঠানকে লন্ডনের সবচেয়ে পুরনো রেস্তোরাঁ হিসেবে ধরা হয়। ২২৮ বছর পার হলেও এটি এখনো সমান জনপ্রিয়। ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি ঐতিহ্য ধরে রাখায় রেস্তোরাঁটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
প্রতিষ্ঠাতা থমাস রুল প্রথমে এটি একটি অয়েস্টার বার হিসেবে চালু করেন। পরে ধীরে ধীরে এটি পূর্ণাঙ্গ রেস্তোরাঁয় রূপ নেয়। দীর্ঘ ইতিহাসে ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্য, সাহিত্যিক চার্লস ডিকেন্স, অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন, ক্লার্ক গেবল, লরেন্স অলিভিয়ার, সংগীতশিল্পী ডেভিড বোয়ি ও ম্যাডোনাসহ বহু খ্যাতিমান ব্যক্তি এখানে খাবার খেয়েছেন।
রেস্তোরাঁটির জনপ্রিয়তা শুধু অতিথিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জেমস বন্ড সিরিজের স্পেক্টর ও জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ডাউনটন অ্যাবিসহ বহু চলচ্চিত্র ও টিভি নাটকের শুটিং হয়েছে এখানে। পুরনো সাজসজ্জা অক্ষুণ্ন থাকায় আলাদা করে সেট তৈরি করারও প্রয়োজন পড়েনি।
বর্তমান মালিক রিকি ম্যাকমেনেমি ১৯৯৩ সালে ব্যবস্থাপক হিসেবে রুলসে যোগ দেন। ২০২২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নেন।
তিনি জানান, নব্বইয়ের দশকে রেস্তোরাঁটির অবস্থা ভালো ছিল না। রান্নাঘর, খাবারের মান ও সেবায় বড় ধরনের সংস্কার করতে কয়েক লাখ পাউন্ড বিনিয়োগ করা হয়। তবে সংস্কারের সময়ও ঐতিহ্য নষ্ট করা হয়নি। বরং ধীরে ধীরে উন্নয়নের মাধ্যমে রেস্তোরাঁটিকে আধুনিক চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নেয়া হয়েছে।
রুলসের অন্যতম পরিচিতি ব্রিটিশ ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের পাই, স্টেক অ্যান্ড কিডনি পুডিং, রোস্ট বিফ ও বুনো প্রাণীর মাংসের পদ এখানে বেশ জনপ্রিয়।
বিশ্বের রেস্তোরাঁ শিল্পে যেখানে ক্রমবর্ধমান ব্যয়, কম মুনাফা ও দ্রুত ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা বাড়ছে, সেখানে রুলস ব্যতিক্রম। দুই শতাব্দীজুড়ে পাঁচজন মালিকের অধীনে প্রতিষ্ঠানটি টিকে আছে।
ম্যাকমেনেমি জানান, তাদের কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন কোনো পুরস্কার নয়, বরং একই পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের গ্রাহকদেরও এখনো রুলসে ফিরে আসতে দেখা।










